~৫ কিমি দূরত্ব

নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন: জোলাইবাড়ি রেলওয়ে স্টেশন

~১২০ কিমি দূরত্ব

নিকটতম বিমানবন্দর: মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দর, আগরতলা

~ ২.৫ কিমি দূরত্ব

নিকটতম বাস স্টেশন: জোলাইবাড়ি বাস স্ট্যান্ড

শ্যামসুন্দর আশ্রম টিলা নামক প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভটি দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার জোলাইবাড়ির দক্ষিণ অংশে অবস্থিত। এটি ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে প্রায় ১০৫ কিলোমিটার দূরে এবং মন্দির নগরী উদয়পুর থেকে প্রায় ৫১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রাচীন পোড়ামাটির ইট দিয়ে তৈরি এই স্মৃতিস্তম্ভটি  প্রাচীন বৌদ্ধ ধ্বংসাবশেষের জন্য বিখ্যাত। ধারণা করা যেতে পারে যে ত্রিপুরার বিস্তৃত সমভূমি প্রাচীনকালে পূর্ব বাংলা এবং সমতটে শাসনকারী বেশ কয়েকটি রাজবংশের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

প্রাচীন ইট দিয়ে তৈরি এই স্মৃতিস্তম্ভটি ১৯৮৪-৮৫, ১৯৯৮-১৯৯৯, ১৯৯৯-০০ এবং ২০০০-০১ এই চার বছর ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব জরিপ বিভাগ দ্বারা পরিচালিত খননকার্যের পর সম্পূর্ণ নকশাটি উন্মোচিত হয়। এই স্মৃতিস্তম্ভটি পঞ্চরথের ক্রমানুসারে ক্রুষাকৃতির ন্যায়। যদিও এর উপরিভাগটি অত্যন্ত খারাপভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এই স্মৃতিস্তম্ভের মূল মন্দিরের চারটি প্রবেশদ্বার এবং সব দিকে চারটি সংযুক্ত ছোটো বর্গাকার কক্ষ রয়েছে এবং চারদিক একটি প্রশস্থ প্রদক্ষিণপথ  রয়েছে।

এই স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের নিম্ন অংশের দেওয়ালগুলি পোড়ামাটির ফলকের কারুকার্যে সজ্জিত, যেখানে বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি, মানুষের মূর্তি, পশু,পাখি এবং পৌরাণিক বৈশিষ্ট্য চিত্রিত করা হয়েছে। পোড়ামাটির এই ফলোকগুলিতে মানুষকে নৃত্যশিল্পী, সংগীতজ্ঞ,তীরন্দাজ, যোদ্ধা ইত্যাদি হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে সাপ,মাছ,মকর,ঘোড়া,হাতি, বাঘ, হরিণ, ষাঁড়, মহিষ, বানর, শুকর ইত্যাদি এবং পাখিদের মধ্যে রয়েছে হাঁস, ময়ূর, তোতা, ঈগল ইত্যাদি। এই স্মৃতিস্থানে পাওয়া একটি উল্লেখযোগ্য ভাস্কর্য হলো তারা এবং হয়োগ্রীব দ্বারা বেষ্টিত অবলোকিতেশ্বরের একটি মূর্তি। ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ববিদদের দ্বারা খননকর্যের সময়কালে বৌদ্ধ দেবতার বিভিন্ন ভাস্কর্য পাওয়া গেছে। উল্লেখযোগ্য ভাস্কর্যগুলির মধ্যে হয়গ্রীব এবং তারার পার্শ্বে অবলোকিতেশ্বরের একটি মূর্তি উল্লেখ করার মতো। ভাস্কর্যগুলি ছাড়াও বিভিন্ন নকশায় সজ্জিত প্রচুর সংখ্যক পোড়ামাটির ফলক উদ্ধার করা হয়েছে। শৈলীগত ভিত্তিতে এই স্মৃতিস্তম্ভটি আনুমানিক ৯ম-১০ম শতাব্দীর হতে পারে।

Image Gallery

Drone IMAGE

Drone Video

Location Map

 

রেফারেন্স:

  1. IAR 1984-85, pp. 78-79

  2. আই.এ.আর ১৯৯৮-৯৯, পি। ১৫৯-১৬১

  3. IAR 1999-00, p. 155.

  4. আই.এ.আর ২০০০-০১, পৃষ্ঠা ১১৭-১১৯

  5. যুগ যুগ ধরে ত্রিপুরা, রায়চৌধুরী